যে যেমন।
- Hashtag Kalakar
- Dec 9, 2025
- 1 min read
By Prasun Mukherjee
বাসের জানলা দিয়ে কলকাতার পথে
কতবার দেখেছি।
সারি সারি তালগাছ দক্ষিণে রেখে
ঘাসের লম্বা গালিচায় সাদা সিঁথির মত
সরু মাটির পথ।
দূরের গ্রামটা ডাক দিত আমায়।
দূর সম্পর্কের এক পিসি থাকতেন ঐ গ্রামে।
স্নিগ্ধ দীঘির মত চোখ দুটো ছিল তাঁর।
কতবার বলেছিলেন শীতের ছুটিতে
কটা দিন কাটিয়ে যেতে।
বড় সুন্দর লাগে গ্রামটা তখন।
উৎসব ও হয় অনেক।
জীবনের নানান ঝড় ঝাপটায়
অনেকবার ভেবেছি
যাব সামনের শীতে।
হয়নি যাওয়া।
সেই যেবার ভাগ চাষি মাগা দিদি
চোখ বড় বড়করে বলেছিল
নিজেদের জমিগুলো চিনতে ইচ্ছে করেনা?
ভেবেছিলাম, সত্যিই তো
যে জমির চাল গম খেয়ে বড় হলাম
তাকে ছুঁয়ে দেখাই ধর্ম।
কিন্ত বাপ ঠাকুর্দাদের ভাগাভাগি না হওয়া
সেই পূন্য ভূমি চেনা হলোনা কোনদিন।
জীবনের কোনও এক ব্যস্ত জংশনে
সে জমিগুলো বেহাত হয়েছে অল্প অর্থের বিনিময়ে।
রাজনীতির ঝঞ্ঝাট এড়াতে।
সাধ মেটেনি তাই।
আবাসিক স্কুলের ছাত্র ছিল ছেলে।
খুব ছেলেবেলা থেকেই বাড়ির বাইরে।
প্রতিবার গরম ও পূজার ছুটিতে
ভাবতাম আর পড়া পড়া নয়।
এবার খুব গল্প খেলা মজা।
বাড়িতে এলেই বইপত্র গুছিয়ে
প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ।
আগে কাজগুলো শেষ হোক।
ছুটি আনন্দ সব পেরিয়ে আজ
ছেলে দূরের কর্মজগতে।
মজা অধরা আজও।
বছর দশেকের অবসর জীবন।
কত রঙিন স্বপ্ন ছিল কাজের দিন গুলোয়।
দেখতে হবে জগৎটাকে।
ছোটখাট টুর হয়নি এমন নয়।
পূরী দীঘা দার্জিলিঙ কামারপুকুর।
একটু দূরে কাশী কন্যাকুমারি।
শেষ মেষ ঘর ই মস্ত তীর্থ।
মুঠোফোনে পৃথিবীর স্বাদ মেলে এখানে।
জীবনের জিনে টা টা করার
মানুষ থাকে।
ফি বছর নতুন নতুন পাতায় তাদের আগমন।
কেউ আবার পোড়ো জমিদার বাড়ির মত।
খাঁজে খাঁজে বট অশ্বত্থের শেকড়।
By Prasun Mukherjee

Comments