মাকে মনে পড়ে
By SUJOY KANTI PAL
মাকে আমার পড়ছে ভীষণ মনে -
শৈশবের সেই হাঁটি হাঁটি পা ফেলা,
সেই তো শুরু জীবন পথে চলা,
মা তো তখন ছিল আমার সনে।
মাকে আমার পড়ছে ভীষণ মনে -
খড়ি হাতে প্রথম বর্ণ লেখা,
সেই তো শুরু জীবনটাকে শেখা,
মা চেয়েছিলো আমার মুখের পানে।
মাকে আমার পড়ছে ভীষণ মনে -
বিদ্যালয়ে প্রথম প্রবেশ যখন,
মায়ের আঁচল সবে ছাড়ি তখন,
মায়ের চোখেই নিতাম জগত চিনে।
মাকে আমার পড়ছে ভীষণ মনে -
ভরা পুকুরে প্রথম সাঁতার কাটা,
প্রতিকূলতা নিজের হাতে ছাঁটা,
মা দাঁড়িয়ে ঠায় পুকুর কোণে।
মাকে আমার পড়ছে ভীষণ মনে -
খেলার মাঠের অদম্য হাতছানি,
উতসাহেতে ব্যাডমিন্টন রাণি,
রাতে ঘুমের আর খেলার সাথী দিনে।
মাকে আমার পড়ছে ভীষণ মনে -
পরীক্ষা হলে ঢোকার পথে ভয়,
ফল প্রকাশের শুরুতে সংশয়,
মা শোনাতো অভয় বাণী কানে।
মাকে আমার পড়ছে ভীষণ মনে -
হলাম বড় পাইনি কভু টের,
মায়ের আদর পেয়েছি মোরা ঢের,
মা বিরাজে বুকের মধ্যিখানে।
মাকে আমার পড়ছে ভীষণ মনে -
বাবা সহসা গেল মোদের ছেড়ে,
মা-ই তখন আগলেছে বাহুডোরে,
জগত সেদিন আঁধার মা বিনে।
মাকে আমার পড়ছে ভীষণ মনে -
মায়ের বয়স ছুঁলো যখন আশি,
ঠোঁটে মোদের ফুটল খুশীর হাসি,
মা-ই কেষ্ট মোদের বৃন্দাবনে।
মাকে আমার পড়ছে ভীষণ মনে -
বয়সের ভার সারা শরীর জুড়ে,
মাকে কেমনে রাখবো বুকে ধরে,
চিন্তা নামে মোদের মনে-প্রাণে।
মাকে আমার পড়ছে ভীষণ মনে -
আজ মা নেই হাতের নাগালে,
মায়ের স্মৃতিতে অশ্রু বয় গালে,
মাকে খুঁজি গহন আকাশ পানে।
মাকে আমার পড়ছে ভীষণ মনে ।
By SUJOY KANTI PAL

Comments