ছেলে জন্ম
By SUJOY KANTI PAL
আমি ছেলে হয়ে জন্মেছি,
জন্মলগ্নে আমাকে নিয়ে মা-ঠাকুরমা
আদিখ্যেতা করেছিল কিনা মনে পড়ে না ।
চার বছর বয়সে দিদির সাথে
প্রথম স্কুলে যেতে শুরু করি,
মন বসে না - দিদিকে বলি,
চল বাড়ি ফিরে যাই।
দিদি সাহস করে না, অগত্যা -
ব্যাগ কাঁধে গৃহ পানে হাঁটা দিই ।
দিদি ভয় পেয়ে স্কুলের বড়দিকে নালিশ জানায় ।
বাড়ি ফিরলে মা বকা দেয়,
দিদিকে ফেলে একা চলে এলি ?
তখনো বুঝি নি দিদিকে আগলে রাখা
ভাই-এর কর্তব্য ।
পুরুষ তান্ত্রিক পারিপার্শ্বিকতায়
বড় হতে লাগলাম -
একদিন দেখতে দেখতে বিয়ের বয়সও হয়ে গেল ।
রীতি মেনে ভাত-কাপড় দিয়ে
জীবনসঙ্গীকে বরণ করে ঘরে আনলাম ।
দিন কাটতে লাগলো আপন খেয়ালে -
মা বললো, তোর কি বউ-এর দিকে নজর
দেবার এতটুকু অবকাশ নেই ?
বহির্মুখী নিত্য অভ্যাসে ধীরে ধীরে পড়লো ছেদ ।
উপলব্ধি করলাম, বৌ-এর যত্ন নেওয়া
বরের গুরুদায়িত্ব ।
বছর এগোতে লাগলো -
একটা ভালো চাকরি পেয়ে বিদেশে পাড়ি দিলাম ।
ততদিনে বউ-এর কোল আলো করে
পরিবারে কন্যা সন্তান এলো ।
এদিকে দিদির কাছ থেকে ডাক
এসে পৌঁছলো, মা শয্যাশায়ী -
স্বপ্নের চাকরি ফেলে দৌড়ে দেশে ফিরে এলাম ।
মনের ভিতর তুফান উঠলো -
মাতৃসেবা তো ছেলের চিরকর্তব্য ।
যৌবন পেরিয়ে আজ আমি
বার্ধ্যকের দোরগোড়ায় -
জীবনসঙ্গী রোজ দুবেলা
মনে করিয়ে দেয় -
আর কতদিন হাত গুটিয়ে বসে থাকবে ?
মেয়ের বিয়ে দেওয়া তো পিতার কঠিন দায় ।
আমি আবারো জন্মাতে চাই ছেলে হয়ে -
আমার ভালোবাসার বোন, বধূ, মাতা ও কন্যাকে -
দুবাহু দিয়ে বাইরের
ঝড়-ঝাপটা থেকে আগলে রাখার জন্যে ।
By SUJOY KANTI PAL

Comments