দশের দেশে
By Sayani Munshi
'গল্প' নামক গল্পেরা
গল্পগুলো বাড়তে বাড়তে
সিলিং ছুঁলো
গল্পগুলো ফল্গুধারা, হঠাৎ বৃষ্টি,
হাত-পা ধুলো।
গল্প ভিড় করছে কেমন বইয়ের পাতার ফাঁকে ফাঁকে,
এই অরণ্যে পাখিদেরও গল্প থাকে, গল্প থাকে
শীতের ডানায় ভর করে আজ গল্প নামে তোমার ছাদে-
মুক্তি পাওয়ার গল্পগুলো বঞ্চিত আর একলা কাঁদে।
মেঘলা রঙের ঢং
রোদজাগানিয়া অসুখ হয়েছে তার
ঝড়ের আগে থমকে দাঁড়ায়
হাল ভাঙা, নৌকার!
খুব হেসেছিল মূর্তি নদীর ধারে
ঝাপটে পাখা, উড়ছে একা-
বিশ্ব চরাচরে।
রোদজাগানিয়া বোবা শব্দের তুলি দিয়ে ছবি আঁকে
রোদজাগানিয়া ভোরের আকাশে কবিতা হয়েই থাকে।
মানুষী অক্ষর
অক্ষরমালা সাজিয়ে ব'সে আছে মা
বাচ্চাটির মুখে কবিতা তুলে দেবে ব'লে
সারা শহরে স্টেইনগান চললেও
ওখানে থেমে গেছে
সারারাত যেখানে বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি ঝরে।
সব ঝুট হ্যায়
সত্যি বললে
প্রলাপ ভাবে লোকে!
কাঁটার বদলে
গোলাপ ছুঁতে চায়
রাতটা কেমন
ঝরণাজলের মতো
যখন-তখন
আমার দৃষ্টি ভেজায়।
বসন্ত্ বিহার
ওর জন্য ফুলের মালা, দেশের শপথ
ওর জন্য বসন্ত্ বিহার দেখালো পথ
তবুও কেন লোক হাসালো আন্ধা কানুন?
কার জন্য হাঁটলাম এতো মাইল-মাইল?!
জুভেনাইল, ও জুভেনাইল...
গারদ-পুলিশ-নিয়ম-নীতি-প্র্দা ফাঁস
গরিবের প্রাণ চেপে ‘ভাইজান’ দিব্য খালাস
দস্তুর মতো তাক্ লাগানো উকিল-টুকিল
আইপিসি কি মাথায় মাখে ? কিংবা কোনও ফাইল-টাইল?
জুভেনাইল, ও জুভেনাইল...
কতো রাজপথ এসে মিললো দিল্লী, তোমার, দরবারে
কতো রাজধানী মোমবাতি জ্বেলে একে অপরের হাত ধরে
আধুনিক রথ এভাবেই বসে আইন ও আদালতে
ট্র্যাজেডি আরও মিশ্কালো হয়, দৃপ্ত ভঙ্গী, নতুন স্টাইল
জুভেনাইল, ও জুভেনাইল...
আমার সংজ্ঞারা
পঁয়ষট্টি ডেসিবেলে পাড়া কাঁপলো
তবু বুক কাঁপলো না
অযান্ত্রিক আমি
ছাদ ছাড়িয়ে উঠতে চেষ্টা করলাম
চৌকাঠে ধাক্কা খেলাম
এরপরেও কি জল মাপতে চাইবে?
সমস্ত শরীর কাদায় ভেজা
সহজ হবে না এর মানে খোঁজা।
আমি তো বলিনি
আমি তো বলিনি থাকতেই হবে
আমি তো বলিনি ব'ইতে হবে
ফল্গুধারার মতো
মাঠে!
কীভাবে গোপনে আলো
ছড়াচ্ছে চাঁদ
কীভাবে চলা জারি রেখেছে সে
যদি কাঁচে পাও কাটে
শীতের শরীর থেকে আলগা হওয়া
ডালিম রঙা রোদে
জানতে পারবে না-
কীভাবে সাঁকো জুড়ে থাকে
নির্লজ্জ ঝর্ণা!
স্মৃতির অরিগ্যামি
ঘুমের শরীর জুড়ে ছড়িয়ে
ছিলে তুমি
কী হবে এর পর, ভাবে
অন্তর্যামী।
দিগন্তে মেলো মেঠো রঙ শাড়ি
আমিও তোমার বৃক্ষ হ'তে পারি।
স্মৃতির অরিগ্যামি।
সবাই যখন
দেহের মধ্যে চলছে বেড়ে অ্যাড্রিনালিন
শহর জুড়ে হচ্ছে কথা আপৎকালীন
কৃষ্ণ কিশোর, তোমার জামায় রক্ত লেগে-
একলাটি কেউ কবর খোঁড়ে দেশের মধ্যে সবার আগে?!
সেদিন যখন দাঁড়িয়েছিলে রোদের মধ্যে কৃষ্ণ কিশোর
পথ আটকে চক্রব্যূহ, কেউ দেখালো তার কতো জোর!
তুমি তখন ফাগুন হেসে, আগুন রঙে
কুড়িয়ে নিলে বাসন্তী-ভোর।
অন্য গাছে শুকনো পাতা-
শুধু একটা পলাশ মুখর।
কৃষ্ণ কিশোর, তোমার জামায় রক্ত কেন লেগে?
একলাটি কেউ কবর খোঁড়ে দেশের মধ্যে সবার আগে?!
(উৎসর্গঃ কানহাইয়া কুমার)
কুমীর ডাঙা
জলজ উদ্ভিদ জলেই থাকুন
ডাঙায় ওঠার শখ কেন?
কুমীরডাঙা খেলবে না কেউ আর!
আপনার দেখছি তিমি মাছের
মতো হা!
মুখোশটা পরেছেন?
ভালো ক'রে চিনে নিন গাছের পাতা
এরপর চিনি, দুধ সহযোগে চা এলে
খেতে পারবেন না।
By Sayani Munshi

Comments